আল-আমিন সরকার, পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের পূবাইলে পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘদিনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিন ও ছয় বছর বয়সী দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে তিতাস কমিউটার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক মা। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
সোমবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আখাউড়া অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি পূবাইল বাজার (ফাটপাড়) রেলক্রসিং অতিক্রমকালে রেলগেটের পূর্ব পাশে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি আখাউড়ার দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারী তার দুই শিশুসন্তানসহ ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত নারী হাফেজা খাতুন মালা। তার পিতার নাম মোজাম্মেল হক। ভোটার আইডি কার্ড সূত্রে জানা যায়, তার বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সোমবাজার এলাকায়। তবে তার পিতার বাড়ি কালীগঞ্জের বালিগাঁও এলাকায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে লাশের সঙ্গে থাকা একটি পার্টস ব্যাগে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে পূবাইল রেলস্টেশন মাস্টার মুসা সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, “পূর্ণবাইল বাজার রেলগেটের পূর্ব পাশে এক নারী দুই শিশুসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।”
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি স্বামীও এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করতেন না। এসব দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরেই তিনি চরম এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পূবাইল ও কালীগঞ্জ এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। জনমনে গভীর বেদনা ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।