বশিরআলম (গাজীপুরপ্রতিনিধি) :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন গাজীপুরে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী। দলীয় তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হিসেবে দেখার আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশই যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে। ফলে দলটির অভ্যন্তরে যোগ্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। এই প্রেক্ষাপটে গাজীপুর মহানগরীর রাজনীতিতে বীনা চৌধুরীর নাম উঠে এসেছে শক্তভাবে।
** তৃণমূল থেকে নেতৃত্বে—এক সংগ্রামী পথচলা
টঙ্গী সরকারি কলেজে ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন বীনা চৌধুরী। ছাত্র সংসদের দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে যুব মহিলা দল হয়ে বর্তমানের মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক—তার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ ও ধারাবাহিক।
দলীয় সূত্র জানায়, তিনি শুধু পদধারী নেতা নন; বরং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এক মুখ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, হরতাল ও রাজপথের কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশি হয়রানি ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তিনি রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি।
*** নির্বাচনী রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মহানগরের বিভিন্ন থানায় নারী নেত্রীদের সমন্বয়, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নারী নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
*** তৃণমূলের আস্থার প্রতীক
গাজীপুর মহানগরীর শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় নারী শ্রমিকদের অধিকার ও উন্নয়নে বীনা চৌধুরীর সক্রিয়তা তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, “ত্যাগ, সংগ্রাম ও সংগঠনের প্রতি নিবেদনের” যে মানদণ্ড বিএনপি নির্ধারণ করছে, সেই বিবেচনায় বীনা চৌধুরী একজন যোগ্য দাবিদার।
*** বীনা চৌধুরীর প্রত্যাশা
নিজের রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে তিনি বলেন,
“ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দলের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি। হামলা, মামলা, নির্যাতন—সবকিছু উপেক্ষা করেও দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাইনি।”
তিনি আরও বলেন,
“দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়, তাহলে জাতীয় সংসদে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
** শেষ মুহূর্তের সমীকরণ
দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণে এখনো উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে যেকোনো সময় তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিষয় স্পষ্ট—
*খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।