
বশির আলম (গাজীপুর প্রতিনিধি):
গাজীপুরের টঙ্গীতে সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যমে আবারও যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে “ইচ্ছের হাসি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। মানবিক সংগঠন “স্মাইল সিক্রেট অফ ইউর হ্যাপিনেস” গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষামূলক ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টির নতুন পথচলার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও তরুণ সমাজকর্মী খাদিজা আক্তার মৌমির নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পথশিশুদের নিয়ে গল্প বলা, খেলাধুলা, প্রাথমিক পাঠদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিনোদনের নানা আয়োজন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে শিশুদের প্রাণখোলা হাসি, উচ্ছ্বাস আর আনন্দঘন উপস্থিতি যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—একটু ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সুযোগ পেলেই তারাও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারে।
অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ, খেলনা ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। শিশুদের মাঝে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজকরা বলেন, সমাজের প্রতিটি শিশুরই সমানভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। কোনো শিশুই যেন দারিদ্র্য, অবহেলা কিংবা অসহায়ত্বের কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।
তরুণ সমাজকর্মী খাদিজা আক্তার মৌমি বলেন,
“পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আমরা চাই, সমাজের অবহেলিত শিশুরাও একদিন শিক্ষিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হোক। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
জানা যায়, “স্মাইল সিক্রেট অফ ইউর হ্যাপিনেস” দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হিসেবে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় “ইচ্ছের হাসি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
দীর্ঘ চার বছর সফলভাবে কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও অর্থনৈতিক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে থেমে থাকেনি স্বপ্ন কিংবা মানবিক প্রচেষ্টা। দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও অসহায় শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চলতি বছরের ১ মে থেকে টঙ্গী রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে নতুন সাজ, নতুন পরিবেশ ও নতুন প্রত্যয়ে বিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বিদ্যালয়ের পুনরায় কার্যক্রম চালু করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সংগঠনের পুরোনো সদস্য মেহেদি হাসান অন্তর। তিনি শিশুদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
খাদিজা আক্তার মৌমি আরও বলেন,
“অসংখ্য সীমাবদ্ধতা ও কষ্টের মাঝেও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে এই শিশুরা একদিন স্বপ্ন দেখতে শিখবে, নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। আমরা সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল এই মহৎ ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসে, তাহলে পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অংশীদার হতে পারবে।
টঙ্গীর রেললাইনের ধারে, কোলাহলময় জীবনের ভিড়ে ছোট ছোট কিছু মুখ আজও স্বপ্ন দেখতে শিখছে—আর সেই স্বপ্নের নাম “ইচ্ছের হাসি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।
Leave a Reply