
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক) বাসাবাড়ির ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গাজীপুর সিটির ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স জান্নাতুল এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহাম্মদ (হারুন) রবিবার (২৮ জুন) নগর ভবনের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতিপত্র গ্রহণ করেন।
হারুন খরতৈল এলাকার বাসিন্দা ও আব্দুল মালেক মাস্টারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করে আসছেন। পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পান তিনি।
অনুষ্ঠানে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, নগরীতে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, নৈরাজ্য ও ইচ্ছামতো সেবামূল্য আদায়ের সুযোগ আর থাকবে না। গাসিকের নতুন নীতিমালার আওতায় বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন সেবামূল্য কার্যকর করা হয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমে সতর্ক করা হবে। এরপরও অনিয়ম অব্যাহত থাকলে চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরবাসীকে সাশ্রয়ী, সুশৃঙ্খল ও নিরবচ্ছিন্ন পরিচ্ছন্নতা সেবা নিশ্চিত করাই গাসিকের মূল লক্ষ্য।
এ সময় বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকসহ সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
গাসিক সূত্রে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের ৮টি অঞ্চলের ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫১টি ওয়ার্ডে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অভিজ্ঞ ও সক্ষম ৭৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ জুন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব চূড়ান্ত করা হয়।
অনুমতিপত্র গ্রহণের পর মোস্তাক আহাম্মদ (হারুন) বলেন, “সব ধরনের শর্ত পূরণ করেই আমরা টেন্ডারে অংশ নিয়েছি। বর্জ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমাদের রয়েছে। বর্তমানে ৩টি নসিমন ও ১৪ জন কর্মী দিয়ে কাজ পরিচালনা করছি। প্রয়োজন হলে আরও যানবাহন ও জনবল বৃদ্ধি করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “৫১ নম্বর ওয়ার্ডের খরতৈল এলাকায় এখনো কোনো ডাম্পিং স্টেশন (এসটিএস) নেই। ফলে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের পর নির্ধারিত স্থানে ফেলতে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনে গাসিক প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
Leave a Reply