
আল-আমিন সরকার (পূবাইল গাজীপুর প্রতিনিধি) :গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানায় ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির মাত্র দুই দিনের মাথায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় সুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিহত মো. রায়হান রহমান ওরফে রবিন (৩৯) পূবাইল থানার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বসুগাঁও এলাকার আলী আকবরের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক নাবালক ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৫ জুন রাতে পূবাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রফিকুল ইসলাম, এএসআই সুমন মিয়া ও সঙ্গীয় ফোর্স রাত্রীকালীন টহল ও বিশেষ অভিযানের সময় হাড়ীবাড়ীরটেক এলাকার হাসনা হেনা শুটিং স্পটের সামনে থেকে রবিনকে আটক করেন।
পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় ও মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে তা রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রোববার (২৮ জুন) গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রবিনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
নিহতের বাবা আলী আকবর বলেন, “আমার ছেলে গ্রেপ্তারের আগে সুস্থ ছিল। তদন্তে যদি কোনো নির্যাতন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর কীভাবে রবিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলো, কখন ও কী অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং মৃত্যুর আগে তিনি কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন,এসব বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর রাষ্ট্রের হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গেলে ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তই জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, গ্রেপ্তার থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার টাইমলাইন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা নথি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। তদন্তে কোনো অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা নির্যাতনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক বা অন্য যেকোনো তদন্ত, ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উঠে আসবে।”
Leave a Reply