
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর (টঙ্গী):
গাজীপুর মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন ভুলুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তৃণমূলে হতাশা বাড়ছে এবং এর প্রভাব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও পড়ছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির পক্ষে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটার সমন্বয় এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে মো. কামাল হোসেন ভুলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মতে, ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি সুসংহত করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন।
ওয়ার্ড বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দলের দুঃসময়ে মামলা-হামলা, রাজনৈতিক চাপ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কামাল হোসেন ভুলু রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় বিএনপির কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই তার বহিষ্কারাদেশ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বর্তমানে মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরে বিভিন্ন গ্রুপ বা বলয়ের রাজনীতি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর ফলে অনেক ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের পরিবর্তে সুবিধাবাদী, হাইব্রিড কিংবা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনকারী ব্যক্তিরা গুরুত্ব পাচ্ছেন। এতে প্রকৃত কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনীহা বাড়ছে।
তৃণমূলের নেতাদের মতে, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর। সেই কর্মীরাই যদি নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করেন, তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়বে। তাদের ভাষায়, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেমন নিয়ম প্রয়োগ প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়সংগত মূল্যায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও বলেন, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা। তাদের দাবি, মো. কামাল হোসেন ভুলুর বিরুদ্ধে গৃহীত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে।
তাদের মতে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রশ্নটি শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং এটি তৃণমূলের কর্মীদের মনোবল, সাংগঠনিক ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশলের সঙ্গেও সম্পর্কিত। অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হলে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মনে করেন।
নেতাকর্মীরা সতর্ক করে বলেন, মহানগর বিএনপির ভেতরে যে গ্রুপিংয়ের প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, তা দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক বিভক্তি আরও বাড়তে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি, নির্বাচন এবং জনসম্পৃক্ততার ওপরও পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
তাদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন দলকে সবসময় শক্তিশালী করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সম্মান ও মূল্যায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করার বিকল্প নেই।
Leave a Reply