
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি উচ্ছেদকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। একসময় বস্তিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করা নুরু মিয়ার অল্প সময়ে সম্পদ ও প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বস্তির জায়গা নিয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমের নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজীর মাজার বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই নুরু মিয়া আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই বস্তির জায়গা, দখল ও উচ্ছেদকে ঘিরে তার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
উচ্ছেদের নেপথ্যে কারা?
হাজীর মাজার বস্তির কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বস্তির জায়গাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের ব্যবসায়িক ও দখলসংক্রান্ত স্বার্থ রয়েছে। এসব স্বার্থের নেপথ্যে নুরু মিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ তাকে বস্তি উচ্ছেদের ‘নেপথ্যের কারিগর’ হিসেবেও উল্লেখ করছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের রায় বা নির্ভরযোগ্য নথি এই প্রতিবেদনের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।
‘আয়নার সামনে এক চেহারা, আড়ালে আরেক?’
স্থানীয়দের কেউ কেউ নুরু মিয়ার কর্মকাণ্ডকে ‘আয়নাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে তিনি নিজেকে একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ে উপস্থাপন করলেও তার প্রকৃত কর্মকাণ্ড ও প্রভাবের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তাদের প্রশ্ন—একসময় সাধারণ একজন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও প্রভাবের মালিক হলেন? তার বর্তমান ব্যবসা, সম্পদের উৎস এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদক ব্যবসার অভিযোগ
নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের দাবি, হাজীর মাজার বস্তি ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার এবং বিভিন্ন ব্যক্তির প্রভাব সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না, তা আইনগতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাদক ব্যবসায়ী বা ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়।
সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নুরু মিয়ার কথিত সম্পদ ও ব্যবসার উৎস খতিয়ে দেখা হোক। তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জমি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য সম্পদের বৈধ উৎস কী—সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের বক্তব্য, তদন্তে যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
‘আইনের আওতায় এনে তদন্ত করা হোক’
হাজীর মাজার বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে কোনোভাবেই গুজব বা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা দরকার। মাদক ব্যবসা, বস্তি উচ্ছেদে কথিত নেপথ্য ভূমিকা, দখলসংক্রান্ত স্বার্থ এবং অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, “অভিযোগ সত্য হলে নুরু মিয়াকে আইনের আওতায় আনা হোক; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।”
প্রমাণ ছাড়া ‘মাদক সম্রাট’ নয়
নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাকে ‘মাদক সম্রাট’ কিংবা হাজীর মাজার বস্তি ভাঙার ‘প্রধান ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
তবে অভিযোগগুলো যেহেতু গুরুতর, তাই সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার কথিত সম্পদ, ব্যবসা, আয়ের উৎস, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এবং বস্তি উচ্ছেদকে ঘিরে তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে নুরু মিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
পরবর্তী প্রতিবেদনে: নুরু মিয়ার কথিত সম্পদ, ব্যবসা, আয়ের উৎস, জমি-জমা এবং হাজীর মাজার বস্তি উচ্ছেদকে ঘিরে তার কথিত প্রভাব—নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান
Leave a Reply