
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা :
দক্ষিণ কোরিয়াগামী এক কর্মীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে আটক করেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও রাজশাহী জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজশাহীর শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া আমচত্বর মোড় এলাকায় যৌথ অভিযানে আহসান হাবীব (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি রাজশাহীর পবা থানার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। চক্রের অন্য সদস্যরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেরাজ আলী (২১) সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কোরিয়াগামী কর্মীদের রোস্টারে অন্তর্ভুক্ত হন।
এই তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা গত ১৪ জুন মেরাজ আলীর বাড়িতে গিয়ে একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দাবি করে, ১৬ লাখ টাকা না দিলে তার ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ভিসা নিশ্চিত করার কথা বলে অগ্রিম এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মেরাজ আলী ১৫ জুন ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করে জানায়, সরকারি প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে ভিসা নিশ্চিত বা বাতিল করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি প্রতারকদের ধরতে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে আহসান হাবীব অগ্রিম টাকা নিতে এলে বোয়েসেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) ও সিনিয়র সহকারী সচিব নু-এমং মারমা মং এবং ব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ-২) রিফাত তাহনীম রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে আটক করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবীব কোরিয়াগামী কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পরে তাকে শাহমখদুম থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেরাজ আলী বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়মে বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। কোনো ব্যক্তি বা এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা নিশ্চিত বা বাতিল করার সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কেউ প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করলে দ্রুত বোয়েসেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
স্বাক্ষরিত
মো. শরীফুল ইসলাম
জনসংযোগ কর্মকর্তা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
Leave a Reply