
বশির আলম, (গাজীপুর প্রতিনিধি): পবিত্র ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবসেবাকে সামনে রেখে গাজীপুরের টঙ্গীতে ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে “অরাজনৈতিক মানবতার বাতিঘর” নামের একটি সামাজিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সংগঠনটির উদ্যোগে ৭টি কোরবানি সম্পন্ন করা হয় এবং সেই কোরবানির গোশত নিম্নআয়ের, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচি শুধু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ভাগাভাগির সংস্কৃতি গড়ে তোলার এক বাস্তব প্রয়াস। সংগঠনের নেতারা জানান, সমাজের প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন গাজীপুরের পরিচিত সমাজসেবক, “মানবতার বাতিঘর” এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নুরুল ইসলাম দীপু। সভাপতিত্ব করেন কামাল হোসেন ভুলু এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আরাফ রিফাত।
আয়োজকরা বলেন, কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করা, আত্মত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত শিক্ষা নিহিত। সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রতিবছরের মতো এবারও এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সংগঠনের পরিচিতি ও কার্যক্রম
“অরাজনৈতিক মানবতার বাতিঘর” মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা, শিক্ষাসামগ্রী প্রদান এবং দুর্যোগকালীন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করেছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, তারা কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজসেবামূলক কাজ পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সমাজে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেখানে “মানবতার বাতিঘর” মানুষের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতি তৈরির চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানবিক উদ্যোগের গুরুত্ব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিভক্তির মধ্যে অরাজনৈতিক সামাজিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে বাস্তব মানবিক কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যে ব্যক্তি বা সংগঠন মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায়, জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ড এখন সামাজিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, ঈদের সময় নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে কোরবানির গোশত পেয়ে অনেক পরিবার উপকৃত হয়েছে।
গোশতপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এমন উদ্যোগ শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, বরং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংগঠনের নেতারা জানান, ভবিষ্যতেও তারা অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং সমাজে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাবেন।
Leave a Reply