
বশির আলম (স্টাফ রিপোর্টার ) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার আগে ভোটারদের একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল—”গ্যাস সমৃদ্ধ ভোলার প্রতিটি ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া” এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ।
নির্বাচনে তিনি এক লাখের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস পার হয়েছে। ফলে এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে,নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হয়েছে এবং ভোলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে তিনি কোন পথে হাঁটছেন?
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল?
প্রচারকালীন জনসভা ও গণসংযোগে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ভোলার প্রতিটি ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করবেন।
ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়নের দাবি সংসদে জোরালোভাবে তুলবেন।
গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন।
নদীভাঙন রোধ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করবেন।
ঘরে ঘরে গ্যাস -বাস্তবতা কোথায়?
নির্বাচনী প্রচারণায় “ঘরে ঘরে গ্যাস” ছিল সবচেয়ে আলোচিত অঙ্গীকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোলা সদরজুড়ে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এমন কোনো সরকারি ঘোষণা বা প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে কোনো বাস্তবায়ন সূচি বা বাজেটও প্রকাশ করা হয়নি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দিতে হলে শুধু একজন সংসদ সদস্যের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কোম্পানি, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন ও জাতীয় জ্বালানি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। এছাড়া বর্তমানে সরকার দেশব্যাপী নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
সংসদে কী ভূমিকা রেখেছেন?
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আন্দালিব রহমান পার্থ জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পক্ষেও প্রকাশ্যে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প অনুমোদনের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গ
নির্বাচনের আগে পার্থ ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংসদে গিয়ে তার প্রথম কাজ হবে ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবি উত্থাপন করা। যদিও বিষয়টি তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে পুনরায় উল্লেখ করেছেন, তবে এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু বা একনেকে অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হয়নি।
ভোলাবাসীর প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান তারা। বিশেষ করে ভোলার বিশাল গ্যাস সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত, এ অভিযোগ নতুন নয়। তাই “ঘরে ঘরে গ্যাস” শুধু একটি নির্বাচনী স্লোগান নয়, এটি ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
বিশ্লেষকদের মতে, ভোলায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে,
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত অনুমোদন,
গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণ, বড় অঙ্কের সরকারি বিনিয়োগ, বাস্তবসম্মত সময়সূচি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়।
এসব ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে নির্বাচনের কয়েক মাসের মাথায় ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার রাজনৈতিক অবস্থান ও সংসদীয় বক্তব্যের মাধ্যমে কিছু বিষয় সামনে আনলেও, ভোলার প্রতিটি ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদি সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভোলাবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ, বাজেট বরাদ্দ এবং কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Leave a Reply