
নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী: হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, উসকানিমূলক বক্তব্য, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে টঙ্গীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। একই সঙ্গে সংগঠনটির সদস্য, তাদের পরিবার, কার্যালয় ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তাসহ কয়েক দফা দাবি জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গাজীপুরের টঙ্গীতে গাজীপুর মহানগর হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির গাজীপুর মহানগর সভাপতি আবু রায়হান। তিনি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়। সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বক্তব্য এবং তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নয় দফা দাবির একটি দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের দাবিগুলো
১. হেযবুত তওহীদের সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. সংগঠনের কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সংগঠনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খামার ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. উসকানিমূলক বক্তব্য, হুমকি ও ফতোয়া প্রদানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।
৬. মব সহিংসতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উগ্রবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. আইন ও সংবিধানের আওতায় হেযবুত তওহীদের সদস্যদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচার করতে হবে; হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
৯. সংগঠনটির সদস্যদের জানমাল ও স্বাভাবিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান সুমন, গাজীপুর-উত্তরা অঞ্চলের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর খাদ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাকিম খান, টঙ্গী পূর্ব থানা সভাপতি মো. মুকুল সরকার ও গাছা থানা সভাপতি মো. শাহাদাত ইসলাম বক্তব্য দেন।
বক্তারা দাবি করেন, অতীতে তাদের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। নোয়াখালীর পোরকরা গ্রামে সংগঠনটির ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার হামলা এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার অভিযোগও করেন তারা।
হেযবুত তওহীদের নেতারা নিজেদের অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তারা আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
তবে হেযবুত তওহীদের এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
Leave a Reply