
পূবাইল প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন এলাকায় এক ইজিবাইক চালককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে রিসোর্টে আটকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৪১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর মোল্লা, স্থানীয় বালি-মাটি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম রাজা ও জাহিদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ইজিবাইকচালক বিল্লাল হোসেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ইজিবাইক চুরির অপবাদ দিয়ে ডেমরপাড়া এলাকার একটি শুটিং স্পট ও রিসোর্টে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে কানে আঘাত করা হলে সেখান থেকে রক্তপাত হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে তার কাছে জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল করিম রাজার কাছ থেকে ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিন শেষে প্রতিদিনের মতো তিনি ইজিবাইক ও এর চাবি মালিক রেজাউল করিম রাজার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে পূবাইলের হাড়িবাড়িরটেক এলাকায় তার ভাড়া বাসায় চলে যান।
অভিযোগে বিল্লাল হোসেন দাবি করেন, পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রেজাউল করিম রাজা ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর মোল্লা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে ডেমরপাড়া এলাকার জাহিদের শুটিং স্পট ও রিসোর্টে নেওয়া হয়।
সেখানে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ইজিবাইক চুরির অভিযোগ তোলা হয় বলে দাবি করেন বিল্লাল। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম দুই ইঞ্চি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তার বাম হাত ও ডান পায়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে শফিকুল ইসলাম তার কানে আঘাত করলে কান থেকে রক্তপাত শুরু হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিল্লালের অভিযোগ, মারধরের পর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। এ সময় তার চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন। তার চিকিৎসা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৩০৭/২৫, তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৬ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা নেওয়ার পর ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, বালি ও মাটি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটা, বিক্রি এবং জলাশয় ভরাটের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাহাঙ্গীর মোল্লার বক্তব্য
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিল্লালকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বিল্লালকে কয়েকটি বাড়ি দিয়েছি।”
তবে ইজিবাইক চুরির অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি এবং অভিযোগে নাম থাকা অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তুলে ধরা হলো। অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্তদের দায় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a Reply