
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের আওতাধীন টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের ঘোষিত কমিটি নিয়ে সাংগঠনিক অঙ্গনে বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটি গঠনে সাংগঠনিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সাধারণ সম্পাদকের মতামত নেওয়া হয়েছে কি না এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন রয়েছে কি না—এসব বিষয় সামনে এনে মহানগর মহিলা দলের নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি শিরিন চাকলাদার তাঁর একক স্বাক্ষরে টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের একটি কমিটি ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোসাঃ খাদিজা আক্তার বীনা। এ কমিটি গঠন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি একটি জরুরি সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
সাধারণ সম্পাদকের আপত্তি
জরুরি সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে মোসাঃ খাদিজা আক্তার বীনা দাবি করেন, টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের ঘোষিত কমিটিতে তাঁর কোনো স্বাক্ষর নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দেরও কোনো সমর্থন নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি ঘোষিত কমিটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক নিয়মনীতি ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কমিটি ঘোষণা করা হলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের কমিটি গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে একক সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি শিরিন চাকলাদার কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে নিজের একক সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে থানা কমিটি গঠন না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে মহানগর সাধারণ সম্পাদকের মতামত নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংগঠনিক রেজুলেশন ছাড়াই কমিটি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সভাপতি নিজের সিদ্ধান্তেই কমিটি ঘোষণা করেছেন বলে জানান। এ সময় সিদ্ধান্তের পরিণতি যা-ই হোক, তা মেনে নেওয়ার মনোভাবও প্রকাশ করেন বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির চাপ প্রয়োগের বিষয়টি সভাপতির বক্তব্য হিসেবে উঠে এলেও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলীয় গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের কমিটি ঘোষণার ঘটনায় এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি শুধু একটি থানা কমিটি গঠনের বিরোধে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সমন্বয় ও নেতৃত্বের ঐক্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদকের বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা এবং সভাপতির পক্ষ থেকে একক সিদ্ধান্তে কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো—দুই বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। ফলে ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে আরও আলোচনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমাধানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা
এ পরিস্থিতিতে টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে গাজীপুর মহানগর ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাংগঠনিক নিয়মনীতি যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনা এবং দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান, ঘোষিত কমিটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি এবং সাংগঠনিক রেজুলেশনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় কমিটির বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, টঙ্গী পশ্চিম থানা মহিলা দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে প্রকাশ্যে আসা মতবিরোধ সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ কী পদক্ষেপ নেন, তার ওপরই এ বিরোধের পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।
Leave a Reply