
নিজস্ব প্রতিবেদক,( গাজীপুর): গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলার অভিযোগে শাহজালাল রুমিসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে টঙ্গীর ফুপি উদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মধ্য আউচপাড়ার এসএস একাডেমি রোডে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মাদরাসায় হামলা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ সময় শাহজালাল রুমিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের দাবি, মাদরাসায় হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে মুক্তি, উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত এবং সাংবাদিকদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত হামলাকারীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে রাস্তা অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মানববন্ধন থেকেও বক্তারা দাবি আদায়ে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সারা দেশে আলেম-ওলামাদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্ত শাহজালাল রুমির বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, তাঁরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না; বরং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তি চান। টঙ্গীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply