
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন করমতলা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬ বাজারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ—এই তিনটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন এবং বাজারজুড়ে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল দেওয়ান। তার প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে বাজারের একাংশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি পদপ্রার্থী নজরুল দেওয়ানের ছেলে রাব্বি দেওয়ান, যিনি অভিযোগ অনুযায়ী পূর্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, বর্তমানে প্রকাশ্যে তার বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বাজার পরিচালনা কমিটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের ভাষ্য, বাজারের স্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের ঐক্য রক্ষার স্বার্থে নির্বাচন যেন নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয় এবং সব ধরনের অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়।
এদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সূত্র জানায়, বাজারের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সকল মনোনয়নপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে তা বিধি-বিধান অনুযায়ী পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও সূত্রটি জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেননি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের একজন নেতা প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এ মন্তব্য তাদের ব্যক্তিগত মতামত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সভাপতি পদপ্রার্থী নজরুল দেওয়ানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান
আমি আওয়ামী লীগ করেছি কিন্তু কখনো কারো ক্ষতি করি নাই, আমাকে যে মামলা দেওয়া হয়েছে আমি বর্তমানে যাবিনে আছি , আমি নির্বাচন করতে পারব না এমন কোন আইন তো নাই, আমি মানুষের সেবা করার জন্যই বাজার কমিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। থানা বিএনপি নেতা এক নেতা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাথে থেকে আমার হাতে মার্কা তুলে দিয়েছে,
অন্যদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশা করছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচিত কমিটি বাজারের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে।
এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তিগুলো কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং আগামী ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
Leave a Reply