
মোঃ মনজুর মোল্লা, ঢাকা: রাজধানীর তুরাগে অসচ্ছল ও দরিদ্র রিকশাচালকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চান মিয়া বেপারী। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় রিকশাচালকদের মাঝে উপহার হিসেবে অটো রিকশা বিতরণ করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে অন্যের রিকশা বা অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এসব মানুষের কাছে একটি নিজস্ব অটো রিকশা যেন ছিল অনেকটা স্বপ্নের মতো। সংসারের নিত্যদিনের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও খাবারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া এসব শ্রমজীবী মানুষের হাতে যখন নতুন অটো রিকশার চাবি তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগী চালকদের হাতে অটো রিকশার চাবি তুলে দিয়ে চান মিয়া বেপারী বলেন, “দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। একজন মানুষের হাতে কর্মের সুযোগ তুলে দিতে পারলে শুধু একজন মানুষ নয়, তার পুরো পরিবার উপকৃত হয়। এই অটো রিকশাগুলো তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বড় কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”
অটো রিকশার চাবি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কয়েকজন উপকারভোগী চালক। তাদের একজন বলেন, “নিজের একটি গাড়ি হবে—এটা অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই স্বপ্ন পূরণ করার সামর্থ্য ছিল না। এখন নিজের গাড়ি পেয়েছি। নিজের পরিশ্রমে আয় করে সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
আরেক উপকারভোগী বলেন, “এতদিন অন্যের গাড়ি চালিয়ে যা আয় করতাম, তার একটি অংশ গাড়ির মালিককে দিতে হতো। সংসারের খরচ চালিয়ে হাতে তেমন কিছু থাকত না। এখন নিজের অটো হয়েছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটি শুধু একটি গাড়ি নয়, নতুন করে বাঁচার অবলম্বন।”
স্থানীয়রা বলেন, দরিদ্র মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া হলে তারা দীর্ঘমেয়াদে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। চান মিয়া বেপারীর এই উদ্যোগে কয়েকটি পরিবার সরাসরি উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তুরাগ থানা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন, তাহলে অনেক পরিবার দারিদ্র্যের কষ্ট থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
Leave a Reply