
বশির আলম, টঙ্গী (গাজীপুর): গাজীপুরের টঙ্গীতে নূরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। অবশিষ্ট আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এসব দাবি জানান।
নিহতের স্বজনরা বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গীর গোপালপুর এলাকায় নূরুল ইসলামকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মামলা হলেও এখনো সবাই গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নূরুল ইসলাম (৪০) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং টঙ্গীর গোপালপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। গত ১ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে গোপালপুর সোসাইটি মাঠ এলাকায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, মাদক কারবার ও এর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে নূরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নুর ইসলাম বাবু ওরফে খান বাবু, তরিকুল ইসলাম জিহাদ, মামুন ও আরাফাত রহমান জনি—এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে পাওয়া আসামি। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। এতে পরিবারটি আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেবল কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ হবে না; হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এলাকাবাসীরও দাবি, নূরুল ইসলাম হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালপুর এলাকায় যাতে আর কোনো সহিংসতা বা অপরাধের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট মাদকচক্রের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তে কারও নির্দোষতা প্রমাণিত হলে তাকে বাদ দিয়ে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নূরুল ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হবে।
Leave a Reply