
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার দাড়াইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কথিত ‘খোকন বাহিনী’র প্রধান ও একাধিক হত্যা, নাশকতা, চাঁদাবাজি, মাদক এবং জমি দখল মামলার আসামি মনোয়ার হোসেন খোকনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খোকনের গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মনোয়ার হোসেন খোকনকে আটক করে। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের দাবি, খোকন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি সম্প্রতি এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং বিশেষ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে নজরদারিতে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
দাড়াইলে ‘খোকন বাহিনী’ নিয়ে আতঙ্ক
স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন দাড়াইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘খোকন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা মনোয়ার হোসেন খোকনের সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন তার আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক অনুসারী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি
স্থানীয় সূত্রের দাবি, টঙ্গী পশ্চিম থানায় খোকন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি মামলায় চার্জশিটও দাখিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া রাজধানীর পল্টন থানায় বিস্ফোরকসহ হত্যা মামলাসহ উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলাতেও খোকনের নাম রয়েছে । স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।
স্থানীয়দের নানা অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দাড়ইল পশ্চিমপাড়া, বটতলা বস্তি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা দাবি করেন, ভয়ভীতির কারণে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে খোকন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
প্রশাসনের অবস্থান
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট বা নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, খোকনের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তার কথিত বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে দাড়াইল ও আশপাশের এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
Leave a Reply