
আল-আমিন সরকার, পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কাজী শহিদুল্লাহ (৪৬) নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার কাজী শহিদুল্লাহ পূবাইল থানাধীন ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ানীপাড়া এলাকার মৃত কাজী সফিউদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূবাইল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কাজী শহিদুল্লাহকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্তে কাজী শহিদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলায় তার ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজী শহিদুল্লাহ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘কথিত ওসি’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কাজী শহিদুল্লাহ এলাকায় নিজেকে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি ‘কথিত ওসি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাদের দাবি, এ ধরনের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। ক্ষমতার প্রভাবের কারণে অনেক অসহায় মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেতেন না বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে অতীতেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল এবং এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে কাজী শহিদুল্লাহ এলাকায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর কাজী শহিদুল্লাহকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রকৃত বিষয় ও তার ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর অধীনে দায়ের হওয়া মামলার বিচার ও তদন্ত নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
Leave a Reply