
বশিরআলম (গাজীপুর প্রতিনিধি) :গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকার ধরপাড়ার সাতাইশ চৌরাস্তায় নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বুধবার দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে “জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট” ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং একটি বৃক্ষরোপণ করেন। আয়োজকদের মতে, এই প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় ৮ একর জমিতে আধুনিক ইনস্টিটিউট
সাতাইশ চৌরাস্তার ধরপাড়া এলাকায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এই বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে—
প্রশাসনিক ভবন
আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স
গবেষণাগার
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন
সেমিনার ও কনফারেন্স সুবিধা
দুর্যোগ বিষয়ক তথ্য ও ডকুমেন্টেশন সেন্টার
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতিষ্ঠান দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, অগ্নিকাণ্ড ও নগর দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, এই ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হবে—
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ জনবল তৈরি
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা
দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি ও পুনর্বাসন সক্ষমতা বৃদ্ধি
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান
আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা
মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এখানে নিয়মিত পরিচালিত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় অনন্য কেন্দ্র হওয়ার প্রত্যাশা
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতে এই ইনস্টিটিউট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এখানে বৈশ্বিক মানের গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এমন একটি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ইনস্টিটিউট নির্মিত হলে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমের কারণে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকাও নতুন গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন তারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্ট সবার।
Leave a Reply