
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনায়।
ব্যাংক, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
জামায়াত-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা ট্রাস্ট পরিচালিত ফার্মাসিউটিক্যালস, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কক্সবাজারের রাবিতা আল-আলম ইসলামী হাসপাতাল উল্লেখযোগ্য।
ব্যবসা খাতে রয়েছে কেয়ারী ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসেস, বিডি ফুডস, কেয়ারী ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচার কোম্পানি এবং ঢাকার মনোরম ইসলামী ব্যাংক ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশন।
গণমাধ্যম ও প্রকাশনা
গণমাধ্যম ক্ষেত্রেও জামায়াতের প্রভাব বিস্তৃত বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক সংগ্রাম, আমার দেশ, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, শিশু-কিশোরদের জন্য কিশোরকণ্ঠ, মাসিক পৃথিবী, ঢাকা ডাইজেস্ট, আনা দিগন্ত, আধুনিক প্রকাশনী, দিগন্ত টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল নতুনবার্তা.কম এবং সোনার বাংলা ব্লগ।
কোচিং সেন্টার ও শিক্ষা কার্যক্রম
ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতায় পরিচালিত বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মধ্যে রয়েছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ফোকাস, মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতির জন্য রেটিনা, বুয়েটের জন্য ইনডেক্স ও কনক্রিট, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিয়াম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কনটেস্ট, জাহাঙ্গীরনগরের সোনালিকা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিয়েন্ট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক কনসেপ্ট এবং স্কুল ভর্তি প্রস্তুতির সৃজন কোচিং সেন্টার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
জামায়াত-ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইবনে তাইমিয়া একাডেমি, শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইনস্টিটিউট, বেসরকারি ইসলামী ক্যাডেট মাদ্রাসা, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা, ইসলামী ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ঢাকা ও চট্টগ্রাম), আল হেরা, বাদশাহ ফয়সাল একাডেমি, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বগুড়া) এবং ইসলামী ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন
সংগঠন পর্যায়ে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী মহিলা শাখা, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাষী কল্যাণ সমিতি, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ, ডক্টরস ফোরাম, কৃষিবিদ ফোরাম, ইঞ্জিনিয়ার্স ও আর্কিটেক্টস ফোরাম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, বাংলাদেশ মসজিদ মিশন, রিকশা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, তামিরুল মিল্লাত ট্রাস্ট, আল-ফালাহ ট্রাস্ট, সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী, ফুলকুঁড়ি আসর, শিশুকণ্ঠ শিল্পী গোষ্ঠী, আল-হাফিজ যুব সংঘ এবং বগুড়ার দারুস সুফা ট্রাস্ট।
সূত্র ও প্রেক্ষাপট
গবেষকরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ সময় ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে।
উল্লিখিত তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় “জামায়াতের জন্ম ও উত্থান” গ্রন্থ (পৃষ্ঠা ২৯–৩২), সংগ্রামের নোটবুক এবং www.songramernotebook.com–এ প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, তালিকার বাইরে নতুন আরও বহু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
Leave a Reply