
আল-আমিন সরকার পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় দুবাই প্রবাসী এক নারীর কাছ থেকে জমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণের নামে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স’মিল ব্যবসায়ী নূর ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী নারী পাপিয়া আক্তার পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে স্বামীর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাসরত পাপিয়া আক্তার দেশে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে পূবাইল এলাকায় জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেন।পরে প্রতিবেশী পরিচয়ের সূত্র ধরে নূর ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন নূর ইসলাম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বসুগাঁও মৌজায় তিন কাঠা জমির জন্য ৩১ লাখ টাকা, কলেজপাড়া এলাকায় চার কাঠা জমির জন্য ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মাইজগাঁও মৌজায় পাঁচ কাঠা জমির জন্য ৮১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং পূবাইল স্টেশন এলাকায় ছয় কাঠা জমির জন্য ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা রেজিস্ট্রি খরচসহ নেওয়া হয়। এছাড়া কলেজপাড়া এলাকায় চার কাঠা জমির ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণের কথা বলে আরও ৯৫ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনতলা ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও মাত্র প্রথম তলার কাজ সম্পন্ন করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখেন। নির্মাণ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাবও তিনি দেননি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
পাপিয়া আক্তার জানান, পরে জমির দলিলপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছে এবং ভুয়া মালিক পরিচয়ে জমি বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।স্থানীয় মিডিয়া কারী হান্নান ও নিপু জানান,পাপিয়ার নিকট জমি বিক্রি করতে গিয়ে নূর ইসলাম আমাদের ঠকিয়ে অনেক কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। এতে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নির্মাণকাজে মোট প্রায় ৫৫ লাখ টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
এছাড়া রাস্তার বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের নামে ৫০ হাজার টাকা,মসজিদের জন্য দেওয়া ও রাস্তা নির্মাণের জন্য দেওয়া ২ লাখ টাকার মধ্য থেকে ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূবাইল কলেজগেট এলাকার শেখ লতিফ রিয়াজুল জান্নাহ মসজিদের নামে প্রাপ্ত অনুদানের অর্থ বিতরণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নূর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার নিকট প্রাপ্ত অতিরিক্ত টাকার কিছু টাকা দিয়েছি বাকি টাকাও দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। বাকি ৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য ছয় মাস সময় নিয়েছি।”পাপিয়ার বক্তব্য ভিন্ন তার মতে সে আমার ধারের টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং কিছু বাকি রয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১০ জুন পাওনা অর্থ চাইতে গেলে নূর ইসলাম টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply