
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিল্পনগরী টঙ্গীতে ঝুট (জুট) ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টঙ্গীর পাগার এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মনোয়ার হোসেন (২৮), একই এলাকার ঈদগাহ রোডের মৃত কাজী আবু ফজলের ছেলে কাজী তৌহিদুল সজীব (৩৫) এবং কেরানীর টেক এলাকার মৃত বাবুল খাঁর ছেলে রনি খাঁ (৩৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একদল ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দেয়। মহড়ার সময় সংশ্লিষ্ট একটি শিল্প কারখানায় বিদেশি বায়ার উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এরপর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সশস্ত্র মহড়ায় অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। টঙ্গীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিল্পাঞ্চলে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
Leave a Reply