
বশির আলম (গাজীপুর প্রতিনিধি): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি গাজীপুর-২ আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৪৯ হাজার ১৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
চূড়ান্ত ফলাফলে রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের আলী নাসের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯২ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫৫৭ ভোট। সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত ও যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যবধান রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে নির্বাচনী পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিজ গ্রামের সালনা মাদ্রাসা কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, “জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আমি সবসময় একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়েছি। জনগণ তাদের রায় দিয়েছেন—আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।” বিজয়ের পর তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর-২ আসন জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই তীব্র। ফলাফল ঘোষণার পর ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়; বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
বিজয়ের পর রনি জানান, আসনের সার্বিক উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চলের সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা উন্নয়নই হবে তার অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ৪৯ হাজার ১৬৯ ভোটের এই ব্যবধান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a Reply