
বশির আলম, গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল কুদ্দুছ (৫৯)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত আব্দুল কুদ্দুছ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুছের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার হানুয়া লক্ষীপাশা এলাকায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া সুরতরঙ্গ রোড এলাকায় বসবাস করছেন এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকাবাসী জানায়।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৯ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে গেলে স্থানীয় ছালাম (৩২) ও শফি (৪৫) সহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন তার পথরোধ করে। এ সময় তারা “কেন বিএনপি করেন” এবং “পাওনা টাকা পরিশোধ করছেন না” এমন অভিযোগ তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা হাতে থাকা ইট দিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের মাথা ও বাম চোখের উপরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। হামলার তীব্রতায় তার একটি চোখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও অল্পের জন্য দৃষ্টিশক্তি রক্ষা পায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তার চোখের উপরে ৫টি সেলাই দেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
আব্দুল কুদ্দুছ দাবি করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ ও কথিত টাকা পাওনার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছালামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া সরেজমিনে তাদের বাসস্থানে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সম্প্রতি টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি, হামলা ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি না থাকলে টঙ্গীতে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, টঙ্গী শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে রাজনৈতিক সংঘাত দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। অতীতেও আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও দলীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply