
বশির আলম (গাজীপুর প্রতিনিধি): আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী এবং বিশেষ করে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল টঙ্গী পশ্চিম থানা’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আবু বক্কর।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, তাকওয়া, মানবকল্যাণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ। হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির মহান আদর্শ মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষা দেয়। সেই আদর্শকে ধারণ করেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার এক মহৎ শিক্ষা। বর্তমান সমাজে বৈষম্য, অবিচার ও মানবিক সংকট দূর করতে ইসলামের সাম্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
দলীয় আদর্শের প্রসঙ্গ টেনে আবু বক্কর বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতি সবসময় মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, ত্যাগ ও জনকল্যাণভিত্তিক রাজনৈতিক দর্শন ঈদুল আযহার শিক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন,
“রাজনীতিতে ত্যাগ, শ্রম ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম মূলনীতি। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব।”
সামাজিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কোরবানির মাধ্যমে ধনী-গরিবের মাঝে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। তাই ঈদের আনন্দ শুধু ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়েই ঈদুল আযহার প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়ন সম্ভব।
পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ। তাই কোরবানির পশুর রক্ত, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়িসহ সব ধরনের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির উচ্ছিষ্ট নির্ধারিত স্থানে মাটি চাপা দিতে হবে এবং বর্জ্য অপসারণে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও পাত্র ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সবসময় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্যোগ, সংকট কিংবা যেকোনো মানবিক পরিস্থিতিতে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সংগঠনের অঙ্গীকার।
শেষে তিনি দেশবাসী, বিশেষ করে গাজীপুর মহানগরবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বলেন,
“ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক আমাদের ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।”
Leave a Reply