
বশির আলম (গাজীপুর প্রতিনিধি) :
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, গণভোট আমাদের সামনে একটি নতুন দিনের চাবি নিয়ে এসেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত হলে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে, সংসদ ও সচিবালয়ের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই। সংসদের কাজ আইন প্রণয়ন করা এবং নির্বাহী বিভাগের কাজ উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করা। কিন্তু আমাদের দেশে নির্বাহী বিভাগের প্রধানও প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের প্রধানও প্রধানমন্ত্রী—ফলে দুই বিভাগকে এক জায়গায় এনে ফেলা হয়েছে। এর ফলে সংসদে ভিন্নমত বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। এসব কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়া জরুরি।
গতকাল বুধবার বিকেলে গাজীপুরের শহীদ বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ২০২৬ উদ্বুদ্ধকরণ সভা’-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন, ভোটের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগানে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মুহাম্মদ সোহেল হাসান এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌধুরী।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে আর নির্বাচন হবে না—এটাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দাবি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠনও আর সরকারের একক সিদ্ধান্তে হবে না। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ইন্টারনেট আর বন্ধ হবে না—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মুক্তমতের অধিকার হরণ করেছে। কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার উন্মুক্ত প্রদর্শনী করেছে স্বৈরাচারী সরকার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ভবিষ্যতে এসব সুযোগ আর থাকবে না।
আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো দেশের মানুষের কাছে না গিয়ে বিদেশি ক্ষমতাশালীদের কাছে ধর্ণা দেয়। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে এই আধিপত্যবাদী প্রবণতার অবসান ঘটবে। তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে, ফলে ভোটে দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ থাকবে না। এবারের নির্বাচন হবে ব্যতিক্রমধর্মী।
সভায় বক্তব্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা যাচ্ছে। গণভোটের প্রচারণা বিষয়ে তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার রঙিন লিফলেট বিতরণ, ২১টি বিলবোর্ড স্থাপন এবং নগরভবনের সামনে একটি বড় ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী প্রচারণামূলক ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে একটি সুসজ্জিত ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে একযোগে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক কার্যালয় ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ড্রপডাউন ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) আহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সোহেল রানাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন
Leave a Reply