
বশির আলম (প্রতিবেদক):
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম। শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি আন্দোলন–সংগ্রামের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি স্বল্প সময়েই জনপরিচিতি অর্জন করেন।
শরীফ ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। ভাইবোনদের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। শৈশব থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠা হাদি প্রাথমিক শিক্ষা থেকে আলিম পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তিনি রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তন বিষয়ক চিন্তাভাবনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীফ ওসমান হাদি স্থানীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই আন্দোলনে তিনি ছাত্র-জনতার সংগঠক ও বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা তাকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিচিত করে তোলে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তাকে অন্যতম তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনের প্রধান নেতৃত্বের তালিকায়ও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। সে সময় ইনকিলাব মঞ্চকে “ন্যাশনাল অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ইউনিটি” ব্যানারের অধীন থাকা সংগঠনগুলোর একটি হিসেবে দেখানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অভিজ্ঞতা ও দাবির ভিত্তিতে গঠিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ শরীফ ওসমান হাদির নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা—যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার হবে মূল ভিত্তি।
এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করে।
তবে ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর কালভার্ট এলাকায় ভয়াবহ হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। জুমার নামাজের পরপরই তিনটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার চোয়ালে বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি গভীর কোমায় রয়েছেন। তার জিসিএস স্কোর ৩ এবং তিনি মাইড্রিয়াসিসে ভুগছেন। হামলার ঘটনার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার
Leave a Reply