
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট, ফটোকার্ড ও ভিডিও নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, তুরাগ নদী থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রচার করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে নিহত বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার নির্দিষ্ট স্থান, সময় কিংবা কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তুরাগ নদী-সংলগ্ন থানাগুলোতে খোঁজ নিয়ে এমন কোনো লাশ উদ্ধারের ঘটনা বা সাতজন নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থক কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব যাচাইবিহীন তথ্য ও পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনো অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার বা শেয়ার করা অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখেই তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করে প্রথমে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত সূত্র থেকে সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে গুজব প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, “সত্যের পক্ষে থাকুন, গুজব প্রতিরোধ করুন”—এই বার্তাই এখন সময়ের দাবি। তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply